সমুদ্রের জোয়ার ভাটা বিদ্যুৎ কেন্দ্র – Tidal Power Plant

আসসালামু ওয়ালাইকুম, আশাকরি ভালো আছেন সবাই। আজকে আলোচনা টপিক হচ্ছে, সমুদ্রের জোয়ার ভাটা বিদ্যুৎ কেন্দ্র – Tidal Power Plant। আশাকরি এই আলোচনা থেকে বেসিক নলেজ লাভ করবেন সবাই, চলুন শুরু করি।

সমুদ্রের জোয়ার ভাটা বিদ্যুৎ কেন্দ্র –

সমুদ্রের স্রোতের মধ্যে অত্যধিক শক্তি থাকে। যেখানে নদী সমুদ্রের সাথে মিলিত হয় সেখানে সমুদ্রের মোহনায় বিরাটকারে বাঁধ নির্মাণ করে, বাঁধে বড় বড় গেট বসানো হয়। জোয়ারের সময় গেট দিয়ে পানি আসে ও ভাটার সময় গেট বন্ধ করে দেয়া হয়। বাঁধের ভিতরের সঞ্চিত পানি কে উচ্চতা বা হেড হিসাবে ব্যবহার করে টারবাইন কে ঘুরিয়ে যান্ত্রিক উৎপাদন এবং পরে এই যান্ত্রিক শক্তির মাধ্যমে জেনারেটর চালনা করে বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপাদন করা হয়।

— Elements of a Tidal Power Plant —

নিচে সমুদ্রের জোয়ার ভাটা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহ্নত উপাদান সমূহের তালিকা দেয়া হলো –

১। টাইডাল বেসিন – Tidal Basin
২। বাঁধ – Dam
৩। Sluice Gate
৪। ওয়াটার টারবাইন
৫। জেনারেটর – Generator
৬। পাওয়ার হাউজ যন্ত্রপাতি – Power House Equipment

Read  বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পর্কে ধারণা The Basic Concepts of Power Plants

১। টাইডাল বেসিন – Tidal Basin

জোয়ারের পানি কে সঞ্চিত রাখার জায়গা কে টাইডাল বেসিন বলে। কোন কোন ক্ষেত্রে একক বেসিন এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ডাবল বেসিন ব্যবহার করা হয়। দুটি বেসিনের মধ্যে একটি কে লো – বেসিন এবং অপরটি কে হাই – বেসিন বলা হয়ে থাকে।

২। বাঁধ – Dam

জোয়ার চালিত পানিকে বেসিনে জমা রাখার জন্য বাঁধ দিয়ে পানি জমা করা হয়, এবং জোয়ারের পানির দ্বারা ওয়াটার টারবাইন ঘুরানো হয় আবার ভাটার সময় টারবাইন ঘুরে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।

৩। সুইস গেট – Sluice Gate

সমুদ্র হতে বেসিনে এবং টারবাইনে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য sluice gate দেওয়া থাকে।

৪। ওয়াটার টারবাইন – Water Turbine

টাইডাল পাওয়ার প্লান্টে পানির হেড কম থাকে বিধায় কম হেডের ভেরিয়েবল পিচ টারবাইন ব্যবহার করা হয়। সাধারণত পানির হেড ৫ মিটার থেকে ৬ মিটার হয়ে থাকে।

Read  বাষ্প বিদ্যুৎ কেন্দ্র কমিশনিং

৫। বৈদ্যুতিক জেনেরেটর – Electric Generator

ওয়াটার টারবাইন এর সাথে বৈদ্যুতিক জেনেরেটর কাপলিং করা থাকে করা থাকে বিধায় টারবাইন ঘুরানোর সাথে সাথে জেনারেটরও ঘূর্ণন গতি পায় এবং বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। একমুখী বেসিনের জন্য একদিকে ঘূর্ণনশীল টারবাইন ও বৈদ্যুতিক জেনেরেটর ব্যবহার করা হয়, দ্বিমুখী বেসিনের জন্য দুই দিকে ঘূর্ণনশীল টারবাইন ও দুই দিকে ঘূর্ণনশীল জেনারেটর ব্যবহার করা।

টাইডাল পাওয়ার প্লান্টের সুবিধা ও অসুবিধা-

টাইডাল পাওয়ার প্লান্টের সুবিধা

নিচে টাইডাল পাওয়ার প্লান্টের সুবিধা সমূহ দেয়া হল ঃ

১। পরিবেশ দূষণ হওয়ার সমস্যা নাই।
২। সমুদ্রের উৎস সীমাহীন এ জন্য জ্বালানীর চিন্তাভাবনা থাকে না।
৩। টাইডাল পাওয়ার প্লান্টের অবস্থান সামুদ্রিক তীরে থাকে বেশি জায়গার প্রয়োজন হয় না।
৪। টাইডাল পাওয়ার প্লান্ট ইন্টার কানেকটেড সিস্টেমে পিক লোড চাহিদা পূরণ করা সহজ।
৫। টাইডাল পাওয়ার প্লান্টের আশেপাশে পর্যটন কেন্দ্র করা লাভ জনক।
৬। টাইডাল বেসিন কে মৎস চাষের উপযুক্ত স্থান করা যায়।
৭। হাইড্রোলিক প্ল্যান্টের মত বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভর করতে হয় না।
৮। বর্জ্য নিষ্কাশনের সমস্যা নাই।

Read  প্রাইম মুভারের ধারণা-Concept of Prime Movers

টাইডাল পাওয়ার প্লান্টের অসুবিধা সমূহ

নিচে টাইডাল পাওয়ার প্লান্টের অসুবিধা সমূহ দেয়া হল –

১। পাওয়ার ট্রান্সমিশন খরচ বেশি কারণ এ জাতীয় প্ল্যান্ট লোড সেন্টারে স্থাপন করা যায় না।
২। সামুদ্রিক পানি লবণাক্ত থাকে বিধায়, টারবাইনের জন্য সমস্যা।
৩। সেডিমেনটেশন ফিলট্রেশান বেসিনের জন্য প্রয়োজন হয়।
৪। ভেরিয়েবল লোড রেঞ্জ কাজ করতে হয়।
৫। নাব্যতা কমে যায়।
৬। টাইডাল বেসিনে তাড়াতাড়ি স্তর পড়ে।
৭। সাগরের তীরে স্থাপন করতে হয়।
৮। সাগরের ঝড়ে ধ্বংস হতে পারে।

তো আজকে এই পর্যন্ত, আশাকরি উপরে এই বেসিক বিষয় গুলো আপনাদের কাজে আসবে, আন্তরিক ধন্যবাদ আমাদের সাথে থাকার জন্য।

Leave a Comment

You cannot copy content of this page