গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্লান্ট – Gas Turbine Power Plant

আসসালামু ওয়ালাইকুম, আশাকরি ভালো আছেন সবাই। আজকে আলোচনা টপিক হচ্ছে, গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্লান্ট – Gas Turbine Power Plant। আশাকরি এই আলোচনা থেকে বেসিক নলেজ লাভ করবেন সবাই, চলুন শুরু করি।

গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্লান্ট কাকে বলে?

যে পাওয়ার প্লান্টের বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস টারবাইন ব্যবহার করা হয় তাকে গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্লান্ট বলে।

গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্লান্টে কমপ্রেশরে বাতাস কে উচ্চ চাপে সংকুচিত করে দহন প্রকোষ্ঠে প্রেরণ করা হয়. এ চাপ ও তাপযুক্ত বাতাস কমবাশটারে এসে নজলের মাধ্যমে সরবরাহকৃত জ্বালানির সংস্পর্শে আসে এবং দহনক্রিয়া শুরু করে। এতে বাতাস ও জ্বালানির মিশ্রণের তাপমাত্রা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে গ্যাস টারবাইনে প্রসারিত হয় এবং টারবাইন ঘুরিয়ে টারবাইনের এগজস্ট এর মাধ্যমে বেরিয়ে যায়।

গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্লান্টের উপাদান সমূহ – Elements of Gas Turbine Power Plant

একটি সাধারণ গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্লান্টে নিম্নলিখিত উপাদান গুলো থাকে –

১। গ্যাস টারবাইন
২। কম্বাশন চেম্বার
৩। কমপ্রেশার
৪। স্টার্টার
৫। জেনারেটর বা অলটারনেটর

Read  ডিজেল পাওয়ার প্ল্যান্ট এর ধারণা । Basic Concepts of Diesel Power Plant

১। টারবাইন – Turbine

ইম্পালস ও রিয়াকশন উভয় প্রকরের টারবাইন এই ধরনের প্ল্যান্টে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। স্টীম পাওয়ার প্লান্টের মত গ্যাস টারবাইনে স্টেজের সংখ্যা বেশি থাকে না এবং প্রেশার ড্রপও কম হয়।

২। কম্বাশন চেম্বার – Combustion Chamber

দহন প্রকোষ্ঠে জ্বালানি ও বাতাসের মিশ্রণ ঘটে এবং দহন ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ভালোভাবে দহন ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য দহন প্রকোষ্ঠ ডিজাইন করা হয়। কমপ্রেশর হতে বাতাস এসে দহন প্রকোষ্ঠের নজল কর্তৃক সরবরাহকৃত জ্বালানির সাথে মিশ্রিত হয়ে দহন কার্য শুরু করে। এতে দহনকৃত মিশ্রণের তাপমাত্রা প্রায় 1650″ সেঃ এ উন্নীত হয়। এ অধিক তাপমাত্রা গ্যাস টারবাইনে ব্লেডের ক্ষতির কারণ হতে পারে বিধায় কম্বাশন চেম্বারে সেকেন্ডারি বাতাস সরবরাহের মাধ্যমে গ্যাসের তাপমাত্রা কে ৬৫০ ডিগ্রি সেঃ হতে ৮২৫ ডিগ্রি সেঃ এর মধ্যে আনা হয়। অতঃপর গ্যাস কে টারবাইনে প্রবাহিত করানো হয়। বাতাস ও জ্বালানি অনুপাত দহন প্রকোষ্ঠে প্রায় ৬০ঃ১।

Read  ডিসি মোটরের কাজের মূলনীতি (The Principle of Operation of DC Motor)

৩। কমপ্রেশর – Compressor

গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্লান্টে সাধারণত সেন্ট্রিফিউগাল কমপ্রেশার এবং একজিশাল ফ্লো – কমপ্রেশার ব্যবহ্নত হয়। রেসিপ্রোকেটিং কমপ্রেশারের চলন্ত অংশে ঘর্ষণ বেশি, বেশি ওজন, কমগতি এবং অধিক পরিমাণে বাতাস সরবরাহে অক্ষম বিধায় এর ব্যবহার আকর্ষণীয় নয়৷

৪। স্টার্টার ও অল্টারনেটর – Starter and Alternator

Starter, কমপ্রেশার, টারবাইন ও অল্টারনেটর একই শ্যাফটের মধ্যে কাপলিং করা থাকে। কমপ্রেশরটি স্টার্টারের মাধ্যমে চালু করা হয়। টারবাইন ঘুরার সাথে সাথেই অল্টারনেটর ঘুরে ও বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপন্ন হয়।

গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্লান্টের শ্রেণীবিভাগ – Classification Of Gas Turbine Power Plant

গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্লান্ট কে নিম্ন লিখিত ভাগে ভাগ করা যায় –

১। লোড অনুযায়ী –
ক) পিক লোড প্ল্যান্ট খ) স্টান্ড বাই প্ল্যান্ট গ) বেস লড প্ল্যান্ট

২। ব্যবহার হিসাবে –
ক) এয়ারক্রাফট খ) মেরিন গ) লোকোমোটিভ ঘ) ট্রান্সপোর্ট

৩। সাইকেল অনুযায়ী –

ক) ওপেন সাইকেল খ) ক্লোজড সাইকেল

Read  সমুদ্রের জোয়ার ভাটা বিদ্যুৎ কেন্দ্র - Tidal Power Plant

৪। শ্যাফটের সংখ্যা অনুযায়ী –

ক) একক শ্যাফট খ) বহু শ্যাফট

৫। জ্বালানির ব্যবহার অনুযায়ী –

ক) তরল খ) গ্যাস গ) সলিড

গ্যাস টারবাইন পাওয়ার প্লান্ট চালু ও বন্ধ করার প্রক্রিয়া

চালুকরণ –

বৈদ্যুতিক মোটর বা পেট্রোল ইজ্ঞিনের মাধ্যমে প্রথমে কমপ্রেশন চালু করে বাতাসকে কমপ্রেশারে সংকুচিত করা হয়। বাতাস সংকোচনের সময় কম্বাশটারে বাতাস যেতে পারে না। প্রয়োজনীয় চাপ যুক্ত বাতাস কমপ্রেশরে জমা হলে কম্বাশটারে সংযোগ দেয়া হয়। এর কম্বাশটারের জ্বালানি লাইন খুলে দেয়া হয়। দহন প্রকোষ্ঠে ইগনাইটারের মাধ্যমে স্পার্ক ঘটিয়ে দহন ঘটানো হয়। অতঃপর টারবাইন লাইন খুলে দিলে টারবাইন ঘুরতে থাকে। কিছুক্ষণ টারবাইন ঘুরার পর টারবাইনের সাথে জেনারেটর সংযোগ দেয়া হয়। জেনারেটর বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করলে মোটর বা ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়া হয়।

বন্ধকরণ –

গ্যাস টারবাইন বন্ধ করার প্রয়োজন হলে প্রথমে জেনেরেটরের লোড় বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং কম্বাশটারে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করা হয়। এতে করে প্ল্যান্টি বন্ধ হয়ে যায়।

Leave a Comment

You cannot copy content of this page