বেসিক ইলেকট্রিক্যাল নলেজ পর্ব -১ Basic Electrical Knowledge Part -1

এটি আমাদের বেসিক ইলেকট্রিক্যাল নলেজ সিরিজের ১ম পর্ব। এই সিরিজ পোস্টে ইলেকট্রিক্যাল এর বেসিক নলেজ শেয়ার করবো আশাকরি সবার কাজে আসবে। তো আমাদের সাথে থাকুন।

বিদ্যুৎ বা ইলেকট্রিসিটি কি?

বিদ্যুৎ বা ইলেকট্রিসিটি হল এমন একটি বল বা অদৃশ্য শক্তি, যা আমাদের পঞ্চ- ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করা যায় না। কারণ এটা দেখা যায় না, শোনা যায় না, এর কোনো স্বাদ নাই, বর্ণ নেই এবং একে অনুভব ও করা যায় না। এখন কেউ বলতে পারেন, বৈদ্যুতিক বাল্বের দিকে লক্ষ্য করলে আলো দেখা যায়, হিটারে তাপ অনুভব করা যায় এবারের বিদ্যুৎ বাহিত তারে হাত দিলে আঘাত করে, আসলে বাস্তবে এগুলো বিদ্যুৎ নয়, এগুলো হল বিদ্যুৎ প্রবাহের ফল মাত্র। সংক্ষেপ বলা যায়-

বিদ্যুৎ এমন এক অদৃশ্য বল বা শক্তি যা আলো, তাপ, শব্দ, গতি উৎপন্ন করে এবং অসংখ্য বাস্তব কাজ সমাধা করে।

বিদ্যুৎ প্রয়োগের ফল – (Effect of Electric Current)

বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে কী প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, নিম্নে সেগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেয়া হল –

১। তাপীয় ফল – Heating Effect

কোনো পরিবাহীর মধ্যে দিয়ে যখন বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, তখন পরিবাহিটি উত্তপ্ত হয়। ফলে বৈদ্যুতিক শক্তির অপচয় ঘটে। অর্থাৎ বৈদ্যুতিক শক্তি তাপ শক্তিতে রুপান্তরিত হয়। এটাই হল বিদ্যুতের তাপীয় ফল বা heating effect। উদাহরণ – ইলেকট্রিক বাল্ব হতে আলোর বিচ্ছুরণ, বৈদ্যুতিক হিটার হতে তাপ বিকিরণ।

Read  Steam Generator or boilar - বাষ্প জেনারেটর 

২। চুম্বকীয় ফল – Magnatic Effect

পরিবাহীর মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে পরিবাহী বা কন্ডাকটর এর চারদিকে চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়, অর্থাৎ বৈদ্যুতিক শক্তি চৌম্বক শক্তি তে রুপান্তরিত হয়। উদাহরণ – জেনারেটর, মোটর, বৈদ্যুতিক ঘন্টা।

৩। রাসায়নিক ফল – Chemical Effect

যদি কোন যৌগিক পদার্থের দ্রবণে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করানো হয়, তবে উক্ত দ্রবণটি বিশ্লিষ্ট হয়। এই বিশ্লেষণ কে বৈদ্যুতিক বিশ্লেষণ বা Electrolysis বলে। অম্লমিশ্রিত পানিতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করালে উক্ত পানি হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন বিশিষ্ট হয়। অর্থাৎ বৈদ্যুতিক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রুপান্তরিত হয়। উদাহরণ – ইলেকট্রো – প্লেটিং (Electro – plating) এ ক্রিয়ার ফল।

বিদ্যুৎ কত প্রকার ও কি কি?

বিদ্যুৎ ২ প্রকার – যথা –

১। স্থির বিদ্যুৎ – Static Electricity

২। চলমান বিদ্যুৎ – Current Electricity

১। স্থির বিদ্যুৎ – Static Electricity

ঘর্ষণ ( Friction) এর ফলে সৃষ্ট বিদ্যুৎ কেই স্থির বিদ্যুৎ বলে। এ বিদ্যুৎ সকল বস্তুুতেই একই ধরনের হয় না। একেক ধরনের বস্তুুতে একেক রকমের বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। যেমন –

Read  প্রাইম মুভারের ধারণা-Concept of Prime Movers

ক) রেশমী কাপড়ের সাহায্যে একটা কাঁচ দন্ডকে ঘষলে এক ধরনের বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

খ) আবার ফ্লানেল কাপড়ের সাহায্যে একটি এবোনাইট দন্ডকে ঘষলে অন্য ধরনের বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

এটি কিভাবে বুঝবো যে দুটি তে দুই ধরনের বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়েছে? উক্ত দন্ড দুটি কে যদি সুতার সাহায্যে ঝুলিয়ে কাছাকাছি আনা যায়,তবে দেখা যাবে যে দন্ড দুটি পরস্পর কে আকর্ষণ করছে।

আবার দন্ড দুটিকে একই কাপড়ে ঘষে সুতার সাহায্যে ঝুলিয়ে কাছাকাছি আনলে পরস্পরকে বিকর্ষণ করবে। অতএব, এখেনে দুই ধরনের বিদ্যুৎ দেখা যাচ্ছে।

এক প্রকারের বিদ্যুৎ কে ধনাত্মক বিদ্যুৎ ( Positive Electricity) এবং অন্য প্রকারের বিদ্যুৎ কে বলে ঋনাত্নক বিদ্যুৎ ( Nagetive Electricity) .

এই বিদ্যুৎ যে স্থানে উৎপন্ন হয়,সে স্থানেই রয়ে যায় – কোন ক্রমেই উৎপন্ন স্থান ত্যাগ করে না। সে জন্য এর নাম করণ করা হয়েছে স্থির বিদ্যুৎ।

২। চলমান বিদ্যুৎ – Current Electricity

যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন স্থানে স্থির থাকে না থেকে আলো, চাপ, তাপ বা আবেশের কারণে পদার্থের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাকে চলমান বিদুৎ ( Current Electricity) বলে।

Read  জেনারেটর কি? কত প্রকার ও কি কি? বিস্তারিত আলোচনা।

পদার্থের প্রতিটি অ্যাটমের ভিতর ইলেকট্রন সমূহ তাদের নির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তিত হচ্ছে এবং কোন কোন অ্যাটমের মুক্ত – ইলেকট্রন সমূহ বা নেগেটিভ বিদ্যুৎ কণিকা বা চার্জ সমূহ প্রতিনিয়ত অনিয়মিত ভাবে চলাফেরা করে। যদি কোন শক্তির সাহায্যে অর্থাৎ আলো,তাপ,চাপ,আবেশ দিয়ে এদের কে উত্তেজিত করে সুশৃঙ্খল ভাবে একটি নির্দিষ্ট অভিমুখে প্রবাহিত করানো যায়, তবে উক্ত পদার্থের মধ্যে অসংখ্য ইলেকট্রনের স্রোত বইতে থাকবে। ঐ ইলেকট্রনের স্রোত কে চলমান বিদুৎ ( Current Electricity) বলে।

কারেন্ট – Current

পদার্থের মধ্যেকার মুক্ত ইলেকট্রন সমূহ একটি নির্দিষ্ট দিকে প্রবাহিত হওয়ার হারকেই (Rate) কারেন্ট বলে । কারেন্টের প্রতীক হল -( I)

ভোল্টেজ – Voltage

পরিবাহির পরমাণুগুলোর ঋণাত্নক কণিকা বা ইলেকট্রন সমূহ স্থানচ্যুত করতে যে বল বা চাপের প্রয়োজন, সে বল বা চাপকে বিদ্যুৎ – চালক বল ( Electromotive force) বা ভোল্টেজ বলে। এর প্রতীক হল V.

এক কথায়, বৈদ্যুতিক চাপকেই ভোল্টেজ বলে।

Leave a Comment

You cannot copy content of this page