শক্তির উৎস সম্পর্কে ধারণা (The Concept Of Sources Energy)

যে বস্তু বা শক্তির মধ্যে কাজ করার ক্ষমতা নিহিত থাকে, তাকে শক্তির উৎস বলে। শক্তির সকল উৎসই মুলতঃ প্রকৃতি থেকে পাওয়া যায়।শক্তির উৎস কে কাজে লাগিয়ে যান্ত্রিক শক্তি উৎপন্ন করা হয়। প্রাইম  মুভারের সাহায্যে প্রাকৃতিক শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি উৎপন্ন করা হয়।

শক্তির উৎস সম্পর্কে ধারণা (The Concept Of Sources Energy)

প্রাকৃতিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া নিম্নরুপভাবে ব্লক ডায়াগ্রামের সাহায্যে দেখানো  যায়ঃ-

energy-block flow Chart

প্রকৃতিক শক্তির বিভিন্ন উৎস- Various Sources of Energy

যে সকল শক্তির উৎসের সাহায্যে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করা যায়,তা হলো-

  1. জ্বালানি -Fuels
  2. প্রবাহিত পানির স্রোতধারা- Flowing Streams of Water.
  3. সমুদ্রের জোয়ার ও ঢেউ- Ocean Tides and Waves.
  4.  বায়ুপ্রবাহ – wind power.
  5. সূযরশ্মি- Solar energy.
  6. ভূ- গর্ভস্থ তাপ- Geothermal energy.
  7. পারমাণবিক শক্তি -Nuclear Energy.
  8. থার্মোইলেকট্রিক পাওয়ার-Thermo-Electric power.
  9. থার্মোআয়োনিক কনভার্টার-  Thermo ionic converter.
  10. জ্বালানি সেল- Fuel cell.

কঠিন জ্বালানি

কঠিন জ্বালানি হিসাবে সাধারণত কয়লা কে বুঝায়। আমাদের দেশে কিছু কয়লা ভিক্তিক পাওয়ার প্লান্ট আছে। তার মধ্যে অন্যতম হলো আশুগঞ্জ, ঘোড়াশাল, সিদ্ধিরগঞ্জ, রামপাল,খুলনা ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ি প্রভৃতি স্থানে কয়লা ভিত্তিক স্টিম প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে।

Read  বাষ্প কনডেনসার কি? বিস্তারিত আলোচনা। - Steam Condenser

তরল জ্বালানি

তরল জ্বালানির মধ্যে ডিজেল জ্বালানির মাধ্যমে ডিজেল পাওয়ার প্লান্ট পরিচালনা করা হয়। বাংলাদেশের খুলনা, বরিশাল, সিদ্ধিরগঞ্জ সহ ব্যক্তি মালিকানায় দেশের বিভিন্ন শহরে ডিজেল পাওয়ার প্লান্ট রয়েছে। বায়বীয় জ্বালানি – বায়বীয় জ্বালানি দুই প্রকার।

যথা – ১। প্রাকৃতিক গ্যাস, ২। তৈরী গ্যাস।

প্রাকৃতিক গ্যাস – সাধারণত গ্যাস খনি বা পেট্রোলিয়াম খনি হতে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। এতে মিথেনের পরিমাণ বেশি থাকে। এটি বর্ণহীন এবং এটি বিষাক্ত নয়। এর উপাদান সমুহ নিম্নরূপ মিথেন ৮৫%,ইথেন ১০%, এবং অন্যান্য হাইড্রোকার্বন ৫%, প্রাকৃতিক গ্যাসের তাপীয় মান ৫২৫ কিলোক্যালরি/কিউবিক মিটার।

২।তৈরী গ্যাস – ব্লাস্ট ফারনেস গ্যাস, কোল গ্যাস, প্রডিউসার গ্যাস এবং ওয়াটার গ্যাস এদের কে তৈরী গ্যাস বলে।

সমুদ্রের স্রোত ও টেড

জোয়ারের সময় পানিকে সঞ্চিত করে এবং ভাটার সময় পানির সাহায্যে টারবাইন পরিচালিত করে বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপন্ন করা যায়। সমুদ্রের স্রোতের মধ্যে অত্যধিক শক্তি নিহিত থাকে। যে স্থানে নদী সমুদ্রের সাথে মিলিত হয় সেখানে সমুদ্রের মোহনায় বিরাটকায় বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

Read  বাষ্প বিদ্যুৎ কেন্দ্র কমিশনিং

বাঁধে বড় বড় গেইট বসানো থাকে জোয়ারের সময় গেট দিয়ে বাঁধ বাঁধের পানি আসে এবং ভাটার সময় গেট বন্ধ করে দেয়া হয়।বাঁধের ভেতরের সঞ্চিত পানিতে উচ্চতা বা হেডের সৃষ্টি হয়। এ পানি হেডের সাহায্যে টারবাইন ঘুরিয়ে যান্ত্রিক শক্তি এবং যান্ত্রিক শক্তিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রুপান্তর করা হয়।

জোয়ারের পানির মতো সমুদ্রের ঢেউ এর মধ্যেও অনেক শক্তি রয়েছে। ঢেউয়ের উচ্চতা এবং ঢেউ বিলিন হওয়ার মধ্যে উচ্চতার পার্থক্য বিদ্যমান এ শক্তি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে রয়েছে বলে একে কাজে লাগানো খুবই কস্টসাধ্য। তবে গবেষণা দ্বারা এতটুকু প্রমাণিত হয়েছে, যে ঢেউয়ের উদ্দাম শক্তিকে কাজে লাগানো সম্ভব।

ভূগর্ভস্থিপ তাপ

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভূগর্ভের নিচ হতে যে তাপ উঠে তাকে বাষ্পীয় শক্তি উৎপন্ন করার কাজে লাগানো যেতে পারে এটা কে দুই ভাবে কাজে লাগনো যেতে পারে

Read  বায়ু চালিত পাওয়ার প্লান্ট - Windmill Power Plant

পদ্ধতি -১ ভূগর্ভের নিচ হতে যে তাপ হয় তা দ্বারা বাষ্প উৎপন্ন করে বাষ্পীয় টারবাইন পরিচালনা করা হয় এবং বৈদ্যুতিক জেনেরেটর চালিয়ে বৈদ্যুতিক শক্তি পাওয়া যায়।

পদ্ধতি -২ ভূগর্ভ থেকে উত্থিত গরম পানি অথবা বাষ্প দ্বারা সরকারি টারবাইন পরিচালনা করা হয় এবং বৈদ্যুতিক জেনেরেটর চালিয়ে বৈদ্যুতিক শক্তি পাওয়া যায়।

বায়ু শক্তি

প্রবাহমান বাতাসের মধ্যে যে শক্তি আছে তাকে জেনারেটর চালনায় ব্যবহার করা যেতে পারে। এই ধরনের প্ল্যান্টে এক বা একাধিক রোটর বা ব্লেড টাওয়ারের মাধ্যমে উচ্চ স্থানে স্থাপন করা হয়। ব্লেডের প্রান্ত ভাগে যে শ্যাফট থাকে তার নিম্নদিকে জেনারেটর থাকে। বাতাসের প্রবাহের ফলে ব্লেড ঘুরলে শ্যাফটিও ঘুরতে থাকে। শ্যাফটির নিম্ন প্রান্তে জেনারেটর সংযুক্ত থাকে যার কারণে শ্যাফট ঘুরলে জেনারেটরটিও ঘুরতে থাকে এবং বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপন্ন হয়।

আমাদের সাথে থাকার জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই,সকল কে। আশাকরি আমাদের চেষ্টা আপনাদের কাজে আসবে।

Leave a Comment

You cannot copy content of this page