ভুমিকাঃ মোটরযান বা অটোমোবাইল কি?

আমাদের আজকের আধুনিক যে সভ্যতা তার ক্রমবিকাশের পিছনে সবচেয়ে বেশি অবদান হল বিজ্ঞানের। যা মানুষকে দিয়েছে স্বাচ্ছন্দ্য, দিয়েছে গতি। মানুষের আজকের যে আকাশে উড়ে বেড়ানো তাও কিন্তু  বিজ্ঞানের অবদানের ফল।  বিজ্ঞান ব্যাতীত মানুষ সভ্য কোন জাতিতে পরিণত হতে পারবতো না।  প্রাচীন যুগেও তাই বিজ্ঞানের প্রসার লক্ষ্য করা যায়। প্রাচীন যুগের নানা স্হাপত্য  এখন বিজ্ঞানীদের বিষ্ময় সৃষ্টি করে। তাই আজকের আধুনিক বিজ্ঞান প্রাচীন  বিজ্ঞানীদের কাছে  হয়ে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে আশাকরি।

ভুমিকাঃ মোটরযান বা অটোমোবাইল কি

মোটরযান কি?

অজকের আধুনিক পৃথিবীর অন্যতম আবিষ্কার হলো মোটরগাড়ি। যার মাধ্যমে দূর হয়েছে কাছে। মানুষের যাত্রা হয়েছে নিরাপদ। চাকায়ুক্ত যান্ত্রিক যে যানবাহন সমূহ যাত্রী বা মালামাল বহন করার সাথে সাথে নিজের ইঞ্জিনও বহন করে থাকে তাদেরকে মোটরগাড়ি, মোটরযান যানবাহন, অটোযান বা গাড়ি বলে।

অধিকাংশ সূত্র হতে প্রাপ্ত বর্ণনা অনুসারে মোটরগাড়ি সমূহ প্রাথমিকভাবে রাস্তায় চলার উপযোগি করে ডিজাইন করা হয়। এতে সাধারণত ৪টি চাকা এবং ১জন হতে ৮ জন পর্যন্ত বসার ব্যবস্হা থাকে। অন্য অর্থে বলা যায়, গাড়ি, মোটরগাড়ি বা অটোমোবাইল হচ্ছে চাকাযুক্ত একপ্রকার মোটারযান, যা যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। এটি যাত্রী পরিবহনের সাথে সাথে নিজের ইঞ্জিনও পরিবহন করে। গাড়ি সংজ্ঞার্থে ব্যবহৃত বোশিরভাগ যান রাস্তায় চলার জন্য তৈরি করা হয়, সাধারণত এক থেকে আট জন মানুষ বহন করতে পারে ও চাকার পরিমাণ থাকে চারটি। এটি মালপত্র পরিবহণের তুলনায় মূলত মানুষ বা যাত্রী পরিবহণের জন্যই তৈরি করা হয়।

Read  ইঞ্জিন ওভারহলিং- প্রশ্ন ও উত্তর পর্ব প্রথম পার্ট (Engine Overhauling Q&A session)

মোটরগাড়ি আবিষ্কারের ফলে মানুষের পায়ে হাটার দিন বলা চলে শেষের পথে। মানুষ বর্তমানে সাচ্ছন্দে এক জায়গা থেকে অন্যত্র ভ্রমণ করছে স্বল্প সময়ের মধ্যে। তবে এর আবিষ্কারের ফলে জ্বালানীর চাহিদা অনেকাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সেদিন খুব বেশি একটা দূরে নয় যেদিন মানুষ কোন জ্বালানী ছাড়াই মোটরগাড়ি ব্যবহার করতে পারবে আশারাখি।

মোটরগাড়ি কারিগরি শিল্পের কাজের ক্ষেত্র বিস্তৃত। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যেভাবে ইঞ্জিনের ব্যবহার বাড়ছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে দক্ষ কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি অর্থাৎ প্রকৌশলীদের কাজের ক্ষেত্রও বাড়ছে।

মোটরগাড়ির একাল সেকাল

মানব সভ্যতার বিকাশলগ্নে প্রয়োজনের তাগিদেই মানুষ নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিস একের এক উদ্ভাবন করেছিল। অবশ্য তখনকার মানুষের চাহিদা ছিল এক রকম। স্বীকার করার জন্য তারা পাথর পানি হাড়গোড় বা শক্ত ডালপালা দিয়ে তারা হাতিয়ার বানাত। এর চেয়ে বেশি কিছু তখনকার মানুষ কল্পনাও করতে পারত না।

আগুন আবিষ্কারের পর রান্নাবান্নার জন্য মাটি হাড়ি পাতিলও তৈরি করতে শিখেছিল। তাদেরও সেইসব আবিষ্কার এর ধারাবাহিকতায় আজ আমাদের জীবনযাপন অনেক উন্নত। আরও শৌখিন করাতে বিজ্ঞানীদের ভাবনার যেন শেষ নেই। পিচ ঢালা বার্গার তৈরির পর বিজ্ঞানীরা যন্ত্র চালিত গাড়ি তৈরির স্বপ্ন দেখলেও তা বাস্তবায়ন হতে শুরু হয় ১৭০০ সালের শেষ দিকে এসে।

Read  চেসিস কাকে বলে?

আর এ কাজের শুরুটা করেন ফার্দিনান্দ ভার্বিয়েস্ট। খ্রিস্ট ধর্মসভার সদস্য তিনি একবার এসেছিলেন চীনে। অবস্হানও করেছিলেন বেশ কয়েকবছর আর এ সময়ে চীনের পুরনো কিছু নথিপত্র ঘেঁটে ১৬৭২ সালের দিকে তৈরি করেন বাষ্পচালিত একটি মোটরগাড়ি। কিন্ত্ত ওই পর্যন্তই। এ নিয়ে কয়েক বছর কেউ আর নতুন করে কিছু ভাবেননি। পরবর্তীতে এগিয়ে আসেন ইছাক রিভাজ নামে এক সুইস উদ্ভাবক। তিনিই বিশ্বের প্রথম জ্বালানি ইঞ্জিন এর ডিজাইন তৈরি করেন।

তার ডিজাইন করা সেই বাহনটি চালানোর জন্য ব্যবহ্নত হয়েছে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন মিশ্রিত পদার্থ। এটিই ছিল জ্বালানি দিয়ে চালিত বিশ্বের প্রথম মোটরগাড়ী। তবে ওই নকশা অনুযায়ী তৈরি করা গাড়িটি জনগণের মধ্যে তেমন সাড়া পেলতে পারেনি।একইভাবে স্যামুয়েল মোরি,স্যামুয়েল ব্রাউন এবং এটিনি লেনোইয়ারের নকশাও সফলতার মুখ দেখেনি।

Read  মোটরগাড়ীর সিলিন্ডার। Engine Cylinder

অবশেষে জার্মানীর কার্ল বেঞ্জ ১৮৮৫ সালে আবিষ্কার করেন অটো গ্যাসোলিন ইঞ্জিন। এটি খুব দ্রুত সফলতা পায় এবং একই বছর বেঞ্জ সরকারি সনদলাভ করেন। তবে সেসময় অন্য প্রকৌশলীরা যন্ত্রচালিত গাড়ি উন্নয়নে তৎপর ছিলেন। তবু আধুনিক মোটর ইঞ্জিন তৈরীর সকল কৃতিত্ব কার্ল বেঞ্জের।এর কারণ হল ১৮৯৩ সালের আগ পর্যন্ত যে পঁচিশটি চার চাকার গাড়ি তেরী হয়েছিল, তার সবগুলো বেঞ্জের ডিজাইন।

এদিকে ফান্সের এমিলি রজার অবশ্য খুব চালাক ছিলেন। তিনি যখন বুঝলেন গাড়ির ব্যবসা খুব লাভ জনক। তখন তিনি অনুমতি নিয়ে বেঞ্জের ইঞ্জিন তৈরী করা শুরু করলেন। দ্রুত ফ্রান্সের বাজার দখল নিল বেঞ্চ গাড়ি। বাণিজ্যের দিক দিয়ে ফ্রান্স এগিয়ে গেলো জার্মানির চেয়ে।

১৮৯০ থেকে ১৮৯৫ সালের মধ্যে ডেইমলার এবং তার সহযোগীরা মিলে তৈরী করেন ৩০ টি গাড়ি। ১৮৭৭ সালে জর্জ সেলডেন প্রথম আমেরিকান হিসাবে ইঞ্জিনের ডিজাইন তৈরি করেন। সর্বপ্রথম পেট্রোল পাওয়ার কার তৈরি করেন ডেইমলার মোটর কোম্পানি ১৮৯৭ সালে। এর পরপরই গাড়ি শিল্পে যুক্ত হয় নতুন নতুন প্রযুক্তির।

Leave a Comment

You cannot copy content of this page